হিন্দু ধর্মে হনুমান আজীবন ব্রহ্মচারী হিসেবেই পরিচিত। তবে, তাঁরও এক পরাক্রমশালী পুত্র ছিলেন। আপনি কি এ কথা জানেন?

পাতালপুরীতে পিতা হনুমান ও পুত্র মকরধ্বজের ঐতিহাসিক যুদ্ধ
রামায়ণের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্করণে এই বীরের উল্লেখ আছে। তাঁর নাম মকরধ্বজ। আজ আমরা তাঁর জন্মরহস্য জানব। এছাড়া, তাঁর জীবনের কিছু অজানা তথ্যও আলোচনা করব।
১. কীভাবে জন্ম হয়েছিল মকরধ্বজের?
মকরধ্বজের জন্মবৃত্তান্ত অত্যন্ত অলৌকিক। সাধারণত, মানুষ মানবীর গর্ভে জন্ম নেয়। কিন্তু, তাঁর জন্ম কোনও মানবীর গর্ভে হয়নি। বরং, তিনি স্বয়ং হনুমানের ঘাম থেকে জন্ম নেন। তখন তিনি এক মকরের গর্ভে ছিলেন।
লঙ্কাকাণ্ডে হনুমান স্বর্ণলঙ্কা দহন করেন। এরপর, তিনি প্রচণ্ড পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাই, লেজের আগুন নেভাতে তিনি সমুদ্রে স্নান করতে যান। ঠিক সেই সময়ে তাঁর শরীর থেকে এক ফোঁটা ঘাম সমুদ্রে পড়ে। হঠাৎ, একটি বিশাল মকর সেই ঘাম গিলে ফেলে। ফলে, সেই মকরটি গর্ভবতী হয়। অবশেষে, মকরধ্বজ জন্মগ্রহণ করেন।
২. পাতালপুরীতে বেড়ে ওঠা ও অহীরাবণের দ্বাররক্ষক
জন্মের পর তাঁর জীবনের গতিপথ বদলে যায়। অহীরাবণ তাঁকে লালন-পালনের দায়িত্ব পান। তিনি ছিলেন পাতালপুরীর অধিপতি এবং রাবণের পুত্র।
পিতার মতোই মকরধ্বজ ছিলেন অমিত শক্তিধর। ধীরে ধীরে তাঁর এই পরাক্রম অহীরাবণের নজরে আসে। ফলস্বরূপ, অহীরাবণ তাঁর বীরত্বে মুগ্ধ হন। এরপর, তিনি মকরধ্বজকে এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেন। বস্তুত, তিনি তাঁকে পাতালপুরীর প্রধান দ্বাররক্ষক নিযুক্ত করেন।
৩. রামায়ণের আখ্যানে মকরধ্বজের গুরুত্ব
মূল বাল্মীকি রামায়ণে মকরধ্বজের উল্লেখ তেমন নেই। তা সত্ত্বেও, আঞ্চলিক রামায়ণে তাঁর উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। কাহিনী অনুযায়ী, অহীরাবণ রাম ও লক্ষ্মণকে পাতালে অপহরণ করেন।
সুতরাং, তাঁদের উদ্ধার করতে হনুমান পাতালে পৌঁছান। কিন্তু, প্রবেশদ্বারেই মকরধ্বজ তাঁর পথ আটকান। সেখানেই প্রথম পিতা ও পুত্রের পরিচয় হয়। পরিশেষে, কর্তব্যের খাতিরে তাঁদের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ হয়।
উপসংহার
মকরধ্বজ কেবল একটি সাধারণ চরিত্র নন। বরং, তিনি ভক্তি ও কর্তব্যের অনন্য প্রতীক। আজীবন ব্রহ্মচারী হনুমানেরও এক পুত্র ছিল। তাছাড়া, তিনি পাতালপুরীর রক্ষক ছিলেন। সংক্ষেপে, এই আখ্যানটি রামায়ণে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। আজও এটি বহু পাঠকের কাছে এক অজানা বিস্ময়।
সাধারণ জিজ্ঞাস্য (FAQ)
১. মকরধ্বজের মায়ের নাম কী?
উত্তর: মকরধ্বজের কোনো মানবী মা ছিলেন না। হনুমানের ঘাম সমুদ্রে পড়লে একটি মকর তা গিলে ফেলে। ফলে, তার গর্ভেই মকরধ্বজের জন্ম হয়।
২. মকরধ্বজকে কে পালন করেছিলেন?
উত্তর: পাতালপুরীর রাজা অহীরাবণ তাঁকে লালন-পালন করেছিলেন।
৩. হনুমান ও মকরধ্বজের প্রথম দেখা কোথায় হয়?
উত্তর: পাতালে প্রবেশদ্বারে তাঁদের প্রথম দেখা হয়। সেখানে পিতা-পুত্রের যুদ্ধ হয়েছিল।
বজরংবলী হনুমানের এই অজানা আখ্যানটি আপনার কেমন লাগল? কমেন্ট করে জানান। ভক্তিভরে কমেন্ট বক্সে লিখুন ‘জয় বজরংবলী’।










