২০২৬ সালের একাদশী ক্যালেন্ডার: সম্পূর্ণ তালিকা, তারিখ ও পারণের সময়
সনাতন হিন্দু ধর্মে একাদশী ব্রত পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। শারীরিক শুদ্ধি, মানসিক শান্তি এবং শ্রীবিষ্ণুর কৃপা লাভের জন্য প্রতি মাসে দুটি করে একাদশী পালন করা হয়। আপনি যদি ২০২৬ সালের একাদশীর সঠিক তারিখ এবং উপবাস ভাঙার (পারণ) সময় খুঁজছেন, তবে নিচের তালিকা থেকে সহজেই তা জেনে নিতে পারেন।
ॐ একাদশী সময়সূচী ২০২৬
একাদশী ব্রত পালনের নিয়ম ও নিষেধ
- বর্জনীয় খাবার: একাদশীর দিন চাল, ডাল, গম, সরিষা এবং শস্য জাতীয় খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- তুলসী পাতা: একাদশীর দিন ভুলেও তুলসী পাতা ছিঁড়বেন না। পূজার জন্য আগের দিন পাতা সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।
- আচরণ: এই দিন পরনিন্দা, মিথ্যা কথা এবং ক্রোধ বর্জন করে ভগবানের নাম জপ করা উচিত।
- ফলহারি ব্যবস্থা: যারা সম্পূর্ণ নির্জলা থাকতে পারেন না, তারা ফল, দুধ, বা সাবু দিয়ে ব্রত পালন করতে পারেন।
একাদশী ব্রতের মাহাত্ম্য
পারণের (উপবাস ভঙ্গের) সঠিক নিয়ম
একাদশী ব্রত পালনের মতোই পারণ বা উপবাস ভাঙার নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে এবং সঠিক নিয়মে পারণ না করলে ব্রতের সম্পূর্ণ ফল লাভ হয় না।
- পারণের সময়: একাদশীর পরের দিন (দ্বাদশী তিথিতে) সূর্যোদয়ের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারণ করতে হয়।
- পারণের খাবার: সাধারণত ভগবান বিষ্ণুকে নিবেদন করা অন্ন (প্রসাদ) গ্রহণ করে পারণ করা শুভ। তবে যারা অন্ন খান না, তারা ফল বা মিষ্টি দিয়েও উপবাস ভাঙতে পারেন।
- গঙ্গার জল: পারণের সময় একটি তুলসী পাতা ও সামান্য গঙ্গার জল মুখে দিয়ে পারণ শুরু করা অত্যন্ত শুভ।
একাদশী সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
হ্যাঁ, একমাত্র ‘নির্জলা একাদশী’ ছাড়া বছরের বাকি সমস্ত একাদশীতে জল পান করা যায়। তবে বারবার জল না খেয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পান করা ভালো।
সনাতন নিয়ম অনুযায়ী একাদশীতে চা, কফি বা যেকোনো নেশাজাতীয় পানীয় বর্জন করা উচিত। তবে শারীরিক কারণে একান্ত প্রয়োজন হলে দুধ চা পান করা যেতে পারে।
অজান্তে ভুল হলে ভগবান বিষ্ণুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং পরের দিন দ্বাদশীতে ব্রাহ্মণকে কিছু দান করুন। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্ন গ্রহণ করলে ব্রত ভঙ্গ হয়।

