হিন্দুধর্মে বৃহস্পতিবারকে অত্যন্ত পবিত্র দিন বলে মনে করা হয়। এই দিনটি ভগবান বিষ্ণু এবং মা লক্ষ্মীর আরাধনার জন্য শ্রেষ্ঠ। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, জন্মছকে বৃহস্পতি গ্রহ দুর্বল হলে জীবনে নানা সমস্যা, অর্থের অভাব এবং মান-সম্মানহানি হতে পারে। তাই বৃহস্পতিকে তুঙ্গে রাখতে এবং মা লক্ষ্মীর কৃপা পেতে বৃহস্পতিবার এই কাজগুলি করা থেকে বিরত থাকুন:
১. চুল, দাড়ি ও নখ কাটা নিষেধ
শাস্ত্র মতে, বৃহস্পতিবারে চুল, দাড়ি বা নখ কাটলে জন্মছকে বৃহস্পতি গ্রহ দুর্বল হয়ে পড়ে।
কেন করবেন না: মনে করা হয় এর ফলে আয়ু কমে এবং ধনের হানি হয়। গৃহকর্তার শরীর খারাপ হতে পারে এবং সংসারে অকারণে অশান্তি দেখা দেয়।
২. চুলে শ্যাম্পু বা সাবান ব্যবহার
বৃহস্পতিবার চুলে শ্যাম্পু করা বা ভালো করে মাথা ধোয়া নিষিদ্ধ বলে মানা হয়।
কারণ: পুরাণ অনুযায়ী, এই দিনে মাথা ধুলে বা চুল পরিষ্কার করলে সংসারের লক্ষ্মী বা শ্রী চলে যায়। বিশেষ করে বিবাহিত মহিলাদের জন্য এটি স্বামীর অমঙ্গল এবং সন্তানের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
৩. কাপড় কাচা ও ঘর মোছা
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, বৃহস্পতিবার কাপড় কাচা (সাবান দিয়ে) এবং ঘর খুব বেশি ধোয়ামুছা করা উচিত নয়।
প্রভাব: বলা হয়, এই দিনে ধোপার কাজ করলে বা সাবান ব্যবহার করলে গুরু রুষ্ট হন। এর ফলে বাড়ির সদস্যদের পড়াশোনায় বাধা আসে এবং সঞ্চিত অর্থ বেরিয়ে যায়। বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণ (ঈশান কোণ) এই দিনে পরিষ্কার না করাই ভালো।
৪. টাকা ধার দেওয়া বা নেওয়া
বৃহস্পতিবারে কাউকে টাকা ধার দেওয়া বা কারোর থেকে ধার নেওয়া—উভয়ই এড়িয়ে চলা উচিত।
শাস্ত্রীয় মত: এই দিনে টাকা হাতছাড়া করলে মা লক্ষ্মী অসন্তুষ্ট হন এবং ভবিষ্যতে অর্থের আগমন বাধা পায়। বলা হয়, “বৃহস্পতিবারে দিলে ধার, বাড়ে শুধু দেনার ভার।”
৫. আমিষ ভোজন বর্জন
বৃহস্পতিবার হলো সাত্ত্বিক আহারের দিন। এই দিনে মাছ, মাংস, ডিম, পিঁয়াজ, রসুন বা মদ্যপান করা একেবারেই অনুচিত।
পরামর্শ: এই দিন নিরামিষ খাবার গ্রহণ করুন। সম্ভব হলে হলুদ রঙের খাবার (যেমন ছোলার ডাল, বেসন, কলা) খাদ্যতালিকায় রাখুন।
উপসংহার
বিশ্বাস ও ভক্তি হলো হিন্দুধর্মের মূল ভিত্তি। আপনি যদি সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি এবং শান্তি বজায় রাখতে চান, তবে বৃহস্পতির কৃপা পেতে এই ছোট ছোট নিয়মগুলি মেনে চলতে পারেন। এই দিনে হলুদ বস্ত্র পরিধান করা এবং ভগবান বিষ্ণুর চরণে হলুদ ফুল অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ।
Disclaimer: এই ভিডিওটি ধর্মীয় বিশ্বাস, শাস্ত্র এবং বাস্তুশাস্ত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক এবং আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। আমরা কোনোভাবেই কুসংস্কারকে উৎসাহিত করি না। ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং কর্মফল অনুযায়ী ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। অনুগ্রহ করে নিজের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করবেন।